পাবনায় পেট্রোল পাম্পে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে আহত ৩
উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাবনার সাঁথিয়ায় পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুপক্ষের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার বিকালে সাঁথিয়া পেট্রোল পাম্পে এ সংঘর্ষ হয় বলে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানিয়েছন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, বিকালে জামায়াত-শিবির সমর্থক আতিক ফকির এবং সাঁথিয়া পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও ছাত্রদল নেতা জিহাদ মল্লিক পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নিতে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে আতিক ফকির, শাহ আলম ও জিহাদ মল্লিক গুরুতর আহত হন। তাদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আহত ছাত্রদল নেতাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সাঁথিয়া পৌর সদরের গার্লস স্কুলের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিল শেষে তিনমাথা মোড়ে আয়োজিত পথসভায় পৌর জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, জেলা শিবির নেতা শিখন মোল্লা ও সাদ্দাম ফকির বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে একই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলে বিচার দাবিতে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সাঁথিয়া থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
ইসলামী ছাত্র শিবির জেলা শাখার সমাজসেবা সম্পাদক শিখন মোল্লা বলেন, “শিবির সমর্থক আতিক ফকির তেল নিতে গেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। তার মাথায় ছয়টি সেলাই লেগেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
অন্যদিকে সাঁথিয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জীবন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের দুই নেতা তেল নিতে গেলে শিবিরকর্মী আতিক ফকির তাদের ওপর আচমকা হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র (খুর) দিয়ে জখম করে।
“এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা আবার হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। আমরা এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
ওসি আনিসুর রহমান বলেন, “পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, তেল নিতে যাওয়া দুই ছাত্রদল নেতার ওপর আতিক ফকির আগে হামলা চালায়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
বর্তমানে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
