১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

শেরপুরে মহাঅষ্টমী ও সন্ধি পূজায় ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনিতে মুখরিত মন্ডপ

এবার শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ১৬৭টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 11:40 AM

Updated : 19 Oct 2026, 11:40 AM

শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজা ও সন্ধি পূজায় ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খ ধ্বনি আর পুরোহিতের ঘণ্টার শব্দ আর মন্ত্র পাঠে ছিল মুখরিত হয়ে উঠেছে শেরপুরের পূজামন্ডপগুলো।

সোমবার সকালে শেরপুর টাউনের বাগবাড়ি মহল্লায় বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাব ও মাতৃ সেবক সংঘের পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায় ভক্তদের উপস্থিতিতে পূজার বিভিন্ন আচার পালন করা হচ্ছে।

মন্ডপে ভিড় করা ভক্তরা নিজেদের সংসারের সুখ-শান্তি এবং দেশ ও দশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন দুর্গা দেবীর কাছে।

বাগবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা মিতু দে বলেন, “মার কাছে চেয়েছি, তিনি সবার জন্য শান্তি নিয়ে আসুক। প্রতিবছর মা আসেন বাপের বাড়িতে। সারাটি বছর যেন আমাদের ভালো কাটে, সেটাই কামনা করি মায়ের কাছে।”

ভক্ত মানিক সরকার বলেন, “মার কাছে চাইলাম দেশ ও দশের মঙ্গল। যেন সবার কল্যাণ হয়। সবাই যেন শান্তি ও আনন্দ লাভ করে। সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে বাংলাদেশ এটাই কামনা মার কাছে। ”

বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, মহা অষ্টমী পূজা উপলক্ষে ভক্তরা দুর্গা মাকে বস্ত্র, সিঁদুর ও শাখা দান করেন। সন্ধি পূজায় মাকে চৌষট্টি নৈবদ্য দিয়ে পূজা করা হচ্ছে।

এবার শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ১৬৭টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উৎসবমুখর পরিবেশে কুমারী পূজা

দূর্গাপূজায় অষ্টমী তিথীতে সবচেয়ে বড় আয়োজন হলো কুমারী পূজা। এদিন কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

রোববার শেরপুরের নয়আনী বাজার পোদ্দার বাড়িতে আড়ম্বরপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজায় ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু করা হয় কুমারী পূজা। শেষ হয় বেলা ২টায়।

এরপর পুষ্পাঞ্জলি এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

পূজা উদযাপন কমিটি জানিয়েছে, এবারের মাতৃরূপী দেবী দুর্গার শাস্ত্রীয় নাম পূঞ্জিকা আর জীবন্ত রূপের নাম আরাধ্যা চক্রবর্তী। তার বয়স ৮ বছর।

পূজা শুরুর আগে স্নান করিয়ে ঝকঝকে শাড়ি, ফুলের মালা, মুকুট, পায়ে আলতা, কপালে টিপ ইত্যাদি পরিয়ে সাজিয়ে তৈরি করা হয় ‘কুমারী মাকে’। পরে তাকে মণ্ডপে অধিষ্ঠিত করা হয়।

এ সময় ঢাকের বাদন, কাসর ঘণ্টা, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো প্রাঙ্গণ। নারী ভক্তরা উলুধ্বনি দেন এবং কুমারী দেবী ও দুর্গা দেবীর জয়ধ্বনি করেন।

অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস– এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হয় কুমারী মায়ের পূজা। অর্ঘ্য দেওয়ার পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য।