০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খুলে দেওয়া হল রামেবি উপাচার্যের কক্ষ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উপাচার্যকে তার কক্ষে নিয়ে যাবেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 02:16 PM

Updated : 08 Oct 2026, 02:51 PM

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষের তালা কেটে খুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে তালাটি খোলা হয়।

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে আসেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন বলেন, “বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে একটি কাগজে জোর করে সই করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।

উপাচার্যের ভাষ্যমতে, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি সই করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, সবশেষ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন- মো. আলী আকবর হোসাইন ও মো. দেলোয়ার হোসেন।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উপাচার্যকে নিয়ে আসার সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. আবিরসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালা খোলার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাে উপাচার্যের কক্ষ থেকে ‘প্রয়োজনীয় আলামত’ সংগ্রহ করেন।

যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় তারা উপাচার্যকে বাসা থেকে সসম্মানে নিয়ে এসেছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনায় দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উপাচার্যকে তার কক্ষে নিয়ে যাবেন। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।

এদিকে সকাল থেকেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, যুবদল ও উলামা দলের নেতারা।