খাগড়াছড়িতে জলে ভাসল ‘কল্প জাহাজ’, তীরে উড়ল রঙিন ফানুস
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে ঐতিহ্যবাহী রিছিমি বা কল্প জাহাজ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় চেঙ্গী নদীতে ভাসানো হয় কাগজের তৈরি দৃষ্টিনন্দন এ জাহাজ। আর নদীর তীরে উড়ানো হয় একের পর এক ফানুস। এ উৎসব দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সি মানুষ।
প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে জেলা শহর। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ।
ধর্মীয় গুরুরা বলছেন, এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষে মানুষে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।
উৎসব উপলক্ষে সোমবার বিকালে শহরের য়ংড বৌদ্ধ বিহার থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শাপলা চত্বর ঘুরে রাজ্যমনিপাড়া হয়ে চেঙ্গী নদীর তীরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে শত শত তরুণ-তরুণীর উচ্ছ্বাস আর বাদ্যবাজনার তালে তালে নদীতে ভাসানো হয় কাগজের তৈরি কল্প জাহাজ। একই সময়ে নদীর তীরে উড়ানো হয় দৃষ্টিনন্দন ফানুস। এ সময় উৎসবে যোগ দেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা এবং য়ংড বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ কেমাসারা ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন।
বৌদ্ধভিক্ষুদের ভাষ্য অনুযায়ী, কল্প জাহাজ ভাসা উৎসবের সঙ্গে গৌতম বুদ্ধের বৈশালী গমনের একটি ধর্মীয় কাহিনি জড়িত। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে বৈশালী রাজ্যে অনাবৃষ্টি, খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। এতে মানুষ ও জীবজন্তুর ব্যাপক দুর্ভোগ হয়।
সেই সময় বৈশালীর রাজার আমন্ত্রণে শিষ্যদের নিয়ে সেখানে যান গৌতম বুদ্ধ। তিনি ‘রত্নসূত্র’ পাঠের মাধ্যমে রাজ্যকে অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষায় ভূমিকা রাখেন বলে বৌদ্ধ ঐতিহ্যে বর্ণিত আছে।
বৌদ্ধভিক্ষুদের বর্ণনা অনুযায়ী, বৈশালী থেকে ফেরার পথে সর্পদেবতারা ৫০০টি নৌকায় বুদ্ধ ও তার শিষ্যদের নদী পার করে দেন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে কল্প জাহাজভাসা উৎসব পালন করে আসছেন।
