২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

প্রবারণার আকাশে ফানুসের রঙ

“আমরা দীর্ঘদিন দাবি করে আসছি প্রবারণা পূর্ণিমায় একদিন যাতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেটি এখনো হয়নি।”

প্রবারণার আকাশে ফানুসের রঙ

প্রবা রণা পূর্ণি মা র সন্ধ্যা য় চট্টগ্রা ম নগরী র নন্দন কা নন বৌ দ্ধ মন্দি র প্রা ঙ্গণে ফা নুস উৎসবে র আয়ো জন করা হয়। উৎসবে না না আকৃতি র ফা নুস উড়া নো হয়। ফা নুসে র রঙে বর্ণি ল হয়ে উঠে আকা শ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 08:07 PM

Updated : 25 Oct 2026, 08:07 PM

চট্টগ্রামে প্রবারণা পূর্ণিমার দিনটি ধর্মীয় নানা আয়োজন এবং সন্ধ্যায় ফানুস উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।

অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সুখ কামনায় প্রার্থনা করা হয় ফানুস উৎসবে।

রোববার সকাল থেকে নন্দন কানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ভোরে তথাগত গৌতম বুদ্ধের উদ্দেশে ফুল ও পূজা নিবেদন এবং সমবেত প্রার্থনা হয়। এরপর পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ হয়।

এছাড়া ভিক্ষু সংঘের সূত্রপাঠ, সকল প্রাণি ও পরলোকগত জ্ঞাতিদের উদ্দেশে পারলৌকিক সদগতি ও মঙ্গল কামনা এবং বিশ্বশান্তি কামনায় জল উৎসর্গ করা হয়।

অনুষ্ঠানে নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, “মানুষের মধ্যে প্রেম, ভালোবাসা ও মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটানোর জন্য প্রবারণা পূর্ণিমা যুগপোযোগী একটি উৎসব। এই উৎসবকে ভিত্তি করে আমরা দীর্ঘদিন দাবি করে আসছি প্রবারণা পূর্ণিমায় একদিন যাতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেটি এখনো হয়নি।”

সকালের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রিয় রত্ন মহাথের, প্রজ্ঞাপাল মহাথের, সুমনপ্রিয় মহাথেরসহ বিহারের ভিক্ষুসংঘ।

এভাবে দিনের প্রথম পর্ব শেষ হয়। বিকালে হয় ভিক্ষু সংঘের ধর্মদেশনা, সূত্রপাঠ, শীল গ্রহণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং আকাশ প্রদীপ তথা ফানুস উত্তোলনের আয়োজন।

তিন মাসের বর্ষা বাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার আয়োজন করা হয়। আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত তিন মাস বর্ষা ব্রত পালন করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় বর্ষা বাসের।

প্রবারণার বিকালে সম্মিলিত প্রবারণা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীর নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে প্রবারণা পূর্ণিমার সন্ধ্যায় হয়েছে বর্ণিল ফানুস উৎসব।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রবারণার এই দিনে সবাইকে শুভেচ্ছা। চট্টগ্রাম একটি সম্প্রীতির নগরী, সাম্যের নগরী। এই পদ্ম মোড় আরও সুন্দর করে সাজিয়ে দেব। এই শহর সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ শহর হবে।

“কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসুন, সবাই মিলে এই শহরকে নান্দনিক একটি শহরে পরিণত করি। সবাই মিলে একটি শান্তির নগরী গড়ে তুলতে চাই।”

নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, “দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় মেয়র মহোদয় ওনার উদ্যোগে পদ্ম স্থাপন করেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে এই মোড়কে যাতে আরও দৃষ্টিনন্দন করে স্থাপন করেন, সেই অনুরোধ রইল।

“সবাইকে প্রবারণার শুভেচ্ছা। অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সুখ কামনায় প্রার্থনা করছি আজ প্রবারণার দিনে।”

সম্মিলিত প্রবারণা উদযাপন পরিষদ প্রধান সমন্বয়ক রুবেল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

ঢাকের বাজনার সঙ্গে নেচে গেয়ে বাজি ফাটিয়ে আর ফানুস উড়িয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ফানুস উৎসব দেখতে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষও জড়ো হন সেখানে।

বিকাল থেকে নানা যানবাহনে করে বিভিন্ন আকৃতির ফানুস নিয়ে নগরীর নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয় কিশোর-তরুণরা। তারা ঢাক ঢোলের বাজনার সঙ্গে নেচে গেয়ে আনন্দে সামিল হয়।

সন্ধ্যায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’ লেখা ফানুস উড়িয়ে শুরু হয় ফানুস উড়ানো। রাতের আকাশ নানা আকৃতির ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে।