সৌদিতে পৌঁছানোর খবর স্ত্রীকে দেওয়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন শাহেদ
বগুড়ার প্রবাসী শাহেদ আহমেদের মরদেহ ১৩ দিন পর নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
“ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! এক শুক্রবার সৌদি আরবে গেলেন, আর ঠিক আরেক শুক্রবারে ফিরে এলেন লাশ হয়ে।”
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার তরুণ শাহেদ আহমেদ আশিকের (৩২) মরদেহ দীর্ঘ ১৪ দিন পর দেশে পৌঁছানোর পর আফসোস করে কথাগুলো বলছিলেন তার চাচা আয়নাল হোসেন।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে শাহেদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। পরে সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার দুই শিশুসন্তান কাউছার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬)। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই শাহেদকে শেষবারের মতো দেখতে আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় জমান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে রয়েছেন। জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। দুই মাসের ছুটি শেষে ৯ অক্টোবর শুক্রবার তিনি পুনরায় সৌদি আরব যান।
স্বজনরা জানান, ৯ অক্টোবর সৌদির স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শাহেদ। বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পৌঁছানোর খবর দেন তিনি। সেটিই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা। এর কিছুক্ষণ পরই ওই টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শাহেদসহ বেশ কয়েকজন।
শাহেদের অকাল মৃত্যুতে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দুই এতিম শিশু ও বিধবা স্ত্রীর সহায়তায় যেন সরকার এগিয়ে আসে।
