সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ‘শেষবার ফোনে মেয়ে বলেছিল, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে’
সৌদি আরবে দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের খবরে দুশ্চিন্তায় টাঙ্গাইলের এক পরিবার, তাদের মেয়ে আছেন কি-না জানেন না স্বজনেরা।
“আমার মেয়ে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক, আমি আমার মেয়েকে চাই। শেষবার ফোনে মেয়ে বলেছিল, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে।”
সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে এভাবেই মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক নারী।
তবে ওই দুই বাংলাদেশির মধ্যে তার মেয়ে আছেন কি-না, তা এখনো জানতে পারেননি স্বজনরা।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় চার বছর আগে কাজের জন্য সৌদিতে যান তাদের মেয়ে। তাকে পাঠাতে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করেছিলেন বাবা। সৌদিতে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকা পাঠাতেন তিনি। পরে একদিন ফোন করে জানান, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
এরপর প্রায় এক বছর মেয়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। প্রায় ১৫ দিন আগে কারাগার থেকে ফোন করে মেয়েটি জানিয়েছিলেন, দুই মাস পর মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু এর দুই দিন আগে পরিবার জানতে পারে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায়। ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের ‘পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ ছিল।
মেয়েটির বাবা বলেন, মক্কায় কর্মরত কয়েকজন নারীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলে মেয়ে জানিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, “আমার মেয়ে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, তা জানি না। মানুষের কাছে বিভিন্ন কথা শুনছি। সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি।”
মা বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মেয়ের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। শেষবার ফোনে মেয়ে বলেছিলেন, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবেন। এখন মেয়ের অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।
মা বলেন, “আমার মেয়ে আমাকে খুব ভালোবাসত। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শোনার পর থেকে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। মেয়ের কী হয়েছে, তা জানতে চান তারা। একইসঙ্গে মেয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে চান।
পরিবারের দাবি, মেয়ের বিষয়ে এখনো সরকারি কোনো তথ্য তারা পায়নি।
মেয়ের বাড়ির এলাকার এক জনপ্রতিনিধি বলেন, সরকারের কোনো দপ্তর থেকে এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো খবর পাননি।
মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের সত্যতা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তারা কোনো সরকারি তথ্য পাননি। বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জেনেছেন। বিষয়টি জানতে খোঁজ নেওয়া হবে।
