নারায়ণগঞ্জের ‘গ্যাংহোতা’ শ্রাবণ গ্রেপ্তার
এসআরবি বলছে, শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮টি মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’কে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন সিয়াম (২০), দিপু (১৯) ও কামরুজ্জামান (১৯)। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি বলছে, শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮টি মামলা রয়েছে।
এসআরবি-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ছয়টি লম্বা রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাসুদ পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন শ্রাবণ।
“ওই গ্যাংয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য রয়েছে। রূপগঞ্জে সক্রিয় দুটি প্রধান কিশোর গ্যাংয়ের একটি শ্রাবণের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অন্যটি ‘নবী গ্রুপ’ নামে পরিচিত।”
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রাবণ নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় থাকতেন না। একেক দিন একেক এলাকায় রাত কাটাতেন। শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেউ পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হত।
এসআরবি-১১ অধিনায়ক বলেন, অভিযোগের খবর পেয়ে বাদীর বাড়িতে গিয়ে হামলা, ভাংচুর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার মত ঘটনাও ঘটেছে।
একটি মামলার জেরে বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের কথাও জানান তিনি।
আমেনা বেগম নামে এক নারী মামলা করায় তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল। এসআরবির ভাষ্য, ভয়ভীতি দেখানোর কারণে শ্রাবণের বিরুদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করতে সাহস পেতেন না।
সম্প্রতি রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনি হত্যাকাণ্ডেও শ্রাবণ ও তার অনুসারীদের নাম আসে। ওই ঘটনার পর শ্রাবণের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বরের আলোচিত ‘নাদিম অপহরণ’ মামলায় শ্রাবণকে এক নম্বর আসামি করা হয়।
এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণেও শ্রাবণ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে এসআরবি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে বলে জানান মাসুদ পারভেজ।
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শ্রাবণ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রায় ছয় মাস পর জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
শ্রাবণের নামের সঙ্গে ‘কুত্তা’ শব্দটি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ পারভেজ বলেন, তার বাবার নামের সঙ্গেও ওই শব্দটি যুক্ত ছিল।
“তার বাবাও একাধিক মামলার আসামি ছিলেন এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বাবার নাম থেকেই শ্রাবণের নামের সঙ্গে ‘কুত্তা’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে।”
মাসুদ পারভেজ বলেন, শ্রাবণের নেতৃত্বাধীন গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে রূপগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে এসআরবি।
