০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক দিনের মাথায় চুনারুঘাটের আরেক এএসআইয়ের ‘ঘুষের’ ভিডিও

‘৬ হাজার আর ৪ হাজার, ১০ হাজার’- মামলার ধারা ও টাকা নিয়ে এমন কথোপকথনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 06:21 PM

Updated : 06 Oct 2026, 06:21 PM

একদিনের মাথায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার আরেক এএসআইয়ের ‘ঘুষ নেওয়ার’ আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভিডিওটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানতে চাইলে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বণিকের।

এর আগে সোমবার একই থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিওতে তাকে, “পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই”- এমন কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইলিয়াস হোসেনকে চুনারুঘাট থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতনু বণিকের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি প্রায় তিন মিনিট ২০ সেকেন্ডের।

ভিডিওটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুকুরপাড়ে সিমেন্টের বেঞ্চে কয়েকজন বসে কথা বলছেন। কালচে টি-শার্ট ও জিন্স পরা এক যুবককে ৩২৪ ও ৫০৬ ধারাসহ বিভিন্ন আইনি ধারা এবং মামলা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ওই যুবক চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বণিক।

মেরুন টি-শার্ট ও জিন্স পরা আরেক যুবক বেঞ্চে বসে সিগারেট টানছেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। তিনিও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। ক্যামেরার সামনে ও পেছনে আরও দু-একজনকে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনকে টাকা লেনদেন ও কথাবার্তায় অংশ নিতে দেখা যায়।

কথোপকথনে অতনু বণিককে টাকা চাইতে এবং মামলার বিভিন্ন ধারার কথা বলে ভয় দেখাতে শোনা যায়। মামলার আপস-মীমাংসা, আসামির জামিন ও খরচ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে দরদামের কথা হয়।

একজনকে বলতে শোনা যায়, “৬ হাজার আর ৪ হাজার, ১০ হাজার টাকা দিছি।”

এরপর অতনু বণিককে বলতে শোনা যায়, “ঠিক আছে, আর দুই হাজার টাকা বাড়িয়ে দাও আমাকে। আমি বলি, আসামি নিয়ে যাওয়ার সময় তুমি আমাকে খরচের টাকা দিবা না? আসামি গাড়িতে যাওয়ার সময় খরচের টাকা দিবা না? সিএনজি ঠিক করো আজকে। এখন ফোন দাও, এখনই ফোন দাও। তুমি আজ রাতে ১০০ শতাংশ শিওর করবা।”

ওই ব্যক্তি টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানালে অতনু বণিককে রাতে কখন আসবেন, তা জানতে চাইতে শোনা যায়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “৩২৪ ধারায় যদি থানায় এফআইআর হয়, কালকেই জামিন পেয়ে যাবে। আর ৩২৫, ৩০৬ এ এই মামলা মিনিমাম পাঁচ-ছয় বছর ডিল করতে হবে। আমি তো এরকম অফিসার না ভাই, ভুলভাল বোঝাতে পারব না।”

ভিডিওতে এএসআইকে এক হাজার টাকার নোট হাতে নিয়ে গুনতে দেখা যায়। মেরুন টি-শার্ট পরা যুবকটিকে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়।

ভিডিওর শেষ দিকে চুনারুঘাট থানা ভবন দেখানো হয়। এরপর থানার প্রবেশদ্বার ও পাশের বাজারের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে পথচারী, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।

এদিকে, এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে ‘শ্লীলতাহানির চেষ্টার’ অভিযোগ ওঠেছিল। ওই ঘটনায় ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

ভিডিওটির বিষয়ে জানতে এএসআই অতনু বণিকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন-

এএসআইয়ের ভিডিও: ‘পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পোশাক লাগিয়েছি’ বলা সেই এএসআই প্রত্যাহার