খাগড়াছড়ি সীমান্তে সাপের কামড়ে আহত বিজিবি সদস্য, হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে
তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে বিষধর সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন এক বিজিবি সদস্য।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে তাকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বুধবার রাতে উপজেলার বাবুছড়া সীমান্তের পূর্ব লক্ষাছড়া বিওপির একটি ডিউটি পোস্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাবুছড়া-৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসতিয়াক আহাম্মদ ইবনে রিয়াজ।
আহত মাহবুবুলের বাড়ি কুমিল্লায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ফোনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসতিয়াক আহাম্মদ বলেন, “বুধবার রাত ১০টার দিকে ডিউটি শুরুর পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলের পাশে মাটির দেয়ালের মতো একটি স্থানে হাত রাখার পর দংশনে অনুভব করেন মাহবুবুল।
“এ সময় সঙ্গে থাকা গার্ড কমান্ডারকে নিয়ে টর্চলাইটের সাহায্যে কীসে দংশন দিয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন। পরে অন্য সদস্যরাও সেখানে ছুটে যান।”
তিনি বলেন, মাহবুবুলের হাতের কামড়ের দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে বিষধর সাপের দংশন বলে ধারণা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পোস্টে থাকা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধার অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রাতভর তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখেন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল বলেন, দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সকালে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়। আবহাওয়া ও উড্ডয়নের উপযোগী পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর হেলিকপ্টারটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম সিএমএইচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ইসতিয়াক আহাম্মদ বলেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাহবুবুল আশঙ্কামুক্ত। তবে তার হাতে সাপের বিষধর দংশনের চিহ্ন ও ফোলাভাব রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
তিনি বলেন, পূর্ব লক্ষাছড়া বিওপি ব্যাটালিয়নের সবচেয়ে দূরবর্তী ও উঁচু অবস্থানগুলোর একটি। সেখান থেকে ব্যাটালিয়ন সদরে পৌঁছাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এ কারণে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিজিবি মহাপরিচালকের প্রচেষ্টায় হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল।
