হেঁটে হজের পথে টেকনাফের শিক্ষক জামিল
“পুরো পথ পাড়ি দিতে আমাকে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার হাঁটতে হবে।”
হজ পালন করতে হেঁটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফ আইডিয়াল পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জামিল।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় টেকনাফ জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন পৌরসভার কায়ুক খালীয়া পাড়ার হাজি আবুল হাসিমের ছেলে জামিল (৪৮)।
এর আগে তিনি পৌরসভার অলিয়াবাদ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন বলে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এহতেশামুল হক জানান।
জামিলের হেঁটে হজযাত্রার জন্য পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে ৩০ কিলোমিটার হেঁটে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে পৌঁছেছেন তিনি। রোববার ফজরের নামাজ শেষে আবার হাঁটা শুরু করেছে জামিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মোহাম্মদ জামিল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল হেঁটে সৌদি আরব যাব। এজন্য কয়েক বছর ধরে দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২০-৩০ কিলোমিটার হাঁটাহাঁটি করেছি। চলতি বছরের অগাস্ট মাসে হেঁটে আমি ১৬ দিনের মধ্যে বেনাপোল গিয়েছিলাম।
কীভাবে সৌদি আরব পৌঁছাবেন জানতে চাইলে জামিল বলেন, “দিনে কমপক্ষে ৩৫-৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আমি পারব, এটুকু মনোবল রয়েছে।
“প্রথমে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাব। ভারত থেকে পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করব ইনশাআল্লাহ। পুরো পথ পাড়ি দিতে আমাকে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার হাঁটতে হবে। আমি এটুকু পথ পাড়ি দিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রবেশ করব।
মোহাম্মদ জামিল আরও বলেন, মক্কায় যাওয়া পর্যন্ত পুরো খরচ তিনি নিজে চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে ভারতীয় ভিসা পেয়েছেন। ভারতে যাওয়ার পর পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসা নেবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরবে যাবেন। ভিসা পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য প্রশাসন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চান তিনি।
জামিল জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্সের জন্য তিনি আবেদন করবেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর দূতাবাস থেকেও ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার আবেদন করবেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, “টেকনাফ থেকে এক শিক্ষক হজ পালন করতে হেঁটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এটি খুব প্রশংসনীয় ও দুঃসাহসিক উদ্যোগ। আমরা তার এই যাত্রার সফলতা কামনা করি।”
