‘বিল থেকে জাল ওঠানোর অনুমতি দিয়েছে কে’ বলে ২ গ্রাম পুলিশকে মারপিট
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বড় ডুমুরিয়া বিল থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ফেরার পথে তারা মারধরের শিকার হন।
“তোদের বিল থেকে জাল ওঠানোর অনুমতি দিয়েছে কে” বলে দুই গ্রাম পুলিশকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বড় ডুমুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী।
আহতরা হলেন- ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোহাম্মদ ইউসুফ শেখ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শ্যামল কুমার বিশ্বাস।
এর মধ্যে ইউসুফ শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অপরজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে জানা গেছে, সকালে মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে চার গ্রাম পুলিশ ও একজন দফাদার বড় ডুমুরিয়া বিল থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করতে যান। এ সময় ৩০ থেকে ৪০টি জাল জব্দ করে ফেরার পথে তিনজন লোক বিলে গিয়ে তাদের মারধর করেন।
এতে ইউসুফ ও শ্যামল আহত হন। পরে হামলাকারীরা চলে গেলে অন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দুজনকে উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা হাসপাতালে পাঠান।
আহত গ্রাম পুলিশ শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, “উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছারের নির্দেশে জাল জব্দ করতে ওই বিলে যাই। এ সময় ৩০-৪০টি জাল জব্দ করা হয়।
“এর মধ্যে তিন থেকে চারজন লোক একটি নৌকায় করে আমাদের কাছে এসে বলেন, ‘তোদের বিল থেকে জাল ওঠানোর অনুমতি দিয়েছে কে? অনেক টাকার ঋণ ও চারটা মামলা আছে। যদি সাজা হয় হবে, আজকে তোদের ছাড়ব না’ বলে মারধর শুরু করেন তারা।”
প্রত্যক্ষদর্শী দফাদার অনন্ত বৈদ্য বলেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আহত দুই গ্রাম পুলিশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে দোষীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ওসি আইয়ুব আলী বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
