Published : 02 Aug 2023, 08:37 PM
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে স্টাইল ক্রাফট নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও জয়দেবপুর-ঢাকা সড়ক অবরোধ করে।
দাবি আদায়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা আন্দোলন-বিক্ষোভ করে।
পরে পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসে বলে জানান গাজীপুর সদর থানার ওসি।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের কয়েকজন বলেন, স্টাইল ক্রাফট নামের পোশাক কারখানাটিতে মাঝে-মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত জুন-জুলাই মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পাওনা রয়েছে কারখানা শ্রমিকদের। এ বেতন-বোনাস দাবি করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ অবস্থায় গত ২৬ জুলাই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে মালিক পক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে আলোচনার পর ১ অগাস্ট তা পরিশোধের আশ্বাস দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকরা জানান, কিন্তু মালিকপক্ষ ওইদিন (১ অগাস্ট) বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা ত্যাগ করে।
শ্রমিকরা আরও জানান, সেদিন বকেয়া অর্থ না পেয়ে শ্রমিকেরা অসন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু বুধবার সকালে কাজে যোগদান করতে এসে গেইটে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান তারা। বকেয়া পরিশোধ না করে হঠাৎ কারখানা বন্ধের নোটিশ দেওয়ায় সকালে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পাশের জয়দেবপুর-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম বলেন, বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার মালিকের সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১ অগাস্ট জুন মাসের বেতন ও ৮ অগাস্ট শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই ছয়দিনের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেন।
গাজীপুর সদর থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, দুই মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বুধবার কারখানার সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তারা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের সড়ক থেকে কারখানার ভেতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা দুপুরে কারখানা এলাকা ত্যাগ করেন। তবে এ সময় কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কারখানার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার দাবি, করোনার মহামারিতে ব্যবসায় মন্দা পরিস্থিতি শেষ না হতেই ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব পড়ে তাদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন তারা। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারপরও আগামী ১০ অগাস্ট শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা এ প্রতিশ্রুতি মেনে দুপুরে কারখানা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছেন।