ত্রিশালের সেই শিশুটির ঠাঁই হচ্ছে ছোটমণি নিবাসে

শিশুটির একমাত্র স্বজন দাদা বেঁচে থাকলেও নাতিকে লালন-পালনের সামর্থ্য তার নেই।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 09:21 AM
Updated : 29 July 2022, 09:21 AM

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় বাবা-মা-বোনকে হারানোর মুহূর্তে জন্ম নেওয়া সেই নবজাতককে ছোটমণি নিবাসের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে শুক্রবার দুপুরে তাকে ঢাকার আজিমপুরে ছোটমণি নিবাসের উদ্দেশে পাঠানো হয় বলে ময়মনসিংহ সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালিউল্লাহ জানান।

গত ১৬ জুলাই ট্রাকচাপায় ত্রিশাল উপজেলার রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০), স্ত্রী রত্না আক্তার (৩০) ও মেয়ে সানজিদার (৬) মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর মুহূর্তে রত্নার পেট ফেটে এক মেয়েশিশু জন্ম নেয়। সে সময় নবজাতকের ডান হাতের দুই জায়গায় ভেঙে যায়। তাছাড়া পরে তার জন্ডিস, শ্বাসকষ্ট ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, “এমন একটা শিশুকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া গর্বের বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা হল শিশুটিকে সুস্থ করে আমরা বিদায় দিতে পারছি। আজ শিশুটি চলে যাওয়ায় খারাপ লাগছে। যেখানে থাকুক ভাল থাকুক সেই দোয়া করি।”

নবজাতকের একমাত্র স্বজন তার দাদা বেঁচে থাকলেও তাকে লালন-পালনের সামর্থ্য নেই তার।

সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, সব প্রক্রিয়া শেষে হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। দাদা যখন ইচ্ছা নাতিকে দেখতে পারবেন। কখনও সামর্থ্য হলে তিনি নাতিকে ফেরত নিতে পারবেন। প্রয়োজন হলে ১৮ বছর পর্যন্ত সরকারের তত্ত্বাবধানে থাকবে শিশুটি।

নাতিকে বিদায় দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হন দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু।

শুরু থেকেই সবার সহযোগিতা পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও দাবি জানান।

দাদা বলেন, “আমি সবার প্রতি চিরকতৃজ্ঞ। বিশেষ করে সাংবাদিক, প্রশাসন ও চিকিৎসক, যারা পাশে না দাঁড়ালে এত মূল্যায়িত কোনো দিন হতে পারতাম না।

“আমি নিজেও প্রতিবন্ধী। আমার আরও দুইটা নাতি রয়েছে। সবাই একটু খোঁজখবর রাখলে আশা করি ভাল থাকব।”

পায়ে সমস্যার কারণে এই দাদাকে কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক