লালমনিরহাটে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন কৃষকরা।
সারের দাবি এবং ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।
এতে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন মিত্র।
কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্থানীয় দুই ব্যক্তি সার বিতরণের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে দিনের পর দিন ঘুরে খালি হাতে ফিরছেন সাধারণ কৃষকরা।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, “যে সময় সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবুও যেন ঠিকমত চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমেছি।”
চর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সার বিক্রির কালোবাজারির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে ফলন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক জামসেদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “সময়মত সার না দিলে জমি লাল হয়ে যায়। আমরা সারা বছর ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চালাই। তাই দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, “সার বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
“প্রয়োজনে আগামী মাসের বরাদ্দের সারও বিতরণ করা হবে। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার দেওয়া হচ্ছে; যা আগামী দুই দিনের মধ্যে শেষ হবে। এখানে কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।”
কৃষকদের ধৈর্য ধারার অনুরোধ জানিয়ে ইউএনও দীপন মিত্র বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং যাদের কাছে সার কার্ড রয়েছে, তারা সবাই সার পাবেন। কৃষকরা আমাদের আশ্বাসে সড়ক ছেড়েছেন এবং কার্ডগুলো জমা দিয়েছেন। পরবর্তীতে এসব কার্ডের মাধ্যমেই শৃঙ্খলার সঙ্গে সার বিতরণ করা হবে।”
