২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবেন’, এসিল্যান্ডের ফেইসবুক পোস্টে চাঞ্চল্য

জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক বলেন, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্তকে তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 12:38 AM

Updated : 25 Oct 2026, 12:38 AM

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দুটি ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে; প্রশাসন পড়েছে বিব্রতকর অবস্থায়।

এসিল্যান্ড মো. আরিফুর রহমান শান্ত শুক্রবার রাতে উপজেলা এসিল্যান্ডের ফেইসবুক আইডি থেকে ইউএনওকে জড়িয়ে এই পোস্ট দেন। পরে এ দুটি পোস্ট মুছে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে জেলায় নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রোববার জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্তকে তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জে যোগদান করেছেন আরিফুর রহমান শান্ত। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তার বাসায় মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে আসেন এসিল্যান্ড ও তার স্ত্রী। একপর্যায়ে স্ত্রীকে রেখে বাসায় চলে যান এসিল্যান্ড। ১০ মিনিট পরেই পর পর দুটি পোস্ট দেন এসিল্যান্ড।

উপজেলা এসিল্যান্ডের ফেইসবুক আইডি থেকে প্রথম পোস্টে লেখা হয়, “আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবেন।”

এর পর আরেকটি পোস্টে লেখা হয়, “আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।”

পরে এই দুটি পোস্ট এসিল্যান্ডের স্ত্রী মুছে দেন।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউএনওর বাসা থেকে নিমন্ত্রণ খেয়ে যাওয়ার সময় পথে পথচারীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন এসিল্যান্ড। বাসায় গিয়ে আনসার সদস্যের সঙ্গে ঝগড়া করেন এবং একজন আনসার সদস্যের ফোন কেড়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলেন।

এই খবর পেয়ে আনসার কমান্ডার, পুলিশ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে এসিল্যান্ডের বাসায় যান ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক। তখন ইউএনওর তিন বছরের মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এসিল্যান্ড এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।

এ সময় সেখানে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসক এবং থানার ওসি বন্দে আলী মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। তখন এসিল্যান্ডের স্ত্রীকে বিষয়টি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। এ সময় এসিল্যান্ডের বাসায় বাইরে স্থানীয় অনেক লোকজনও জড়ো হন।

এ সময় চিকিৎসকের কাছে এসিল্যান্ডের স্ত্রী দুটি জরুরি ইনজেকশন চান। জামালগঞ্জে সেটার সরবরাহ নেই বলে চিকিৎসক জানানোর পর তাকে সিলেট নেওয়া হয়। এর আগে ঘুমের ইনজেকশনও দেওয়া হয় এসিল্যান্ডকে।

ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক বলেন, “জামালগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও এসে এসিল্যান্ডকে ঘুমের ইনকেজশন দিয়েছিলেন। তখন হইচই শুনে উনার বাসার নিচে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল। রাত ৩টা পর্যন্ত উল্টাপাল্টা করেছেন।

“পরে সিলেট পাঠানোর পর শনিবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বাবা ও ভাই আমাকে জানিয়েছেন, এসল্যিান্ড মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তার চিকিৎসা চলছে।”

জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী মিয়া বলেন, “ইউএনও স্যারের বাসায় এসিল্যান্ড স্যার দাওয়াত খেয়েছেন। দাওয়াত খেয়ে গিয়ে বাসায় ফেইসবুকে উল্টাপাল্টা পোস্ট দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমরা বাসায় গিয়ে উনাকে দেখে ও উনার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি উনি মানসিকভাবে সুস্থ নন। উনার স্ত্রীও আমাদের বিষয়টি বলেছেন এবং দুটি ইনজেকশন চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ইনজেকশন না পাওয়ায় তাকে সিলেট নিয়ে যাওয়া হয়।”