রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র হত্যা: গ্রেপ্তার ৩ আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
দুই দিন আগে একটি মেহগনি বাগানের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজবাড়ী সদরে কলেজছাত্র ফুয়াদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলা গ্রেপ্তার তিন আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে একদল লোক। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর ও সমেসপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়জুর রহমান।
নিখোঁজের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার বাড়ির অদূরে একটি মেহগনি বাগানের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের লাশ উদ্ধার করা পুলিশ। পরে এ ঘটনায় রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরির করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার (৩৪), গনি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং নমেসপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।
এদিন দুপুরে নিজ সম্মেলন কক্ষে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, সোমবার বেলা ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ফুয়াদ। সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে মোবাইল করলে নম্বরটি বন্ধ পায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির অদূরে একটি মেহগনি বাগানের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফুয়াদের স্বজনরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার মীর মনির বলেন, “জমি জমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে গামছা ও টি শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে ফুয়াদকে হত্যা করা হয়।
“পরে লাশ গুম করতে বালুর বস্তায় ভরে একটি পরিত্যাক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, গামছা ও টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে।”
হত্যার পরিকল্পনার খবর এলাকায় ছড়ালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় লোকজন। দুপুরে বক্তারপুর ও সমেসপুর গ্রামের তিন আসামির বাড়িতে আগুন দেয় একদল লোক। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আসামিদের বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ঘরের আসবাবপত্র পুড়ছে। বাড়ির চারপাশে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা বিচারের দাবি করছে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। আর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্যারিস হোসেন বলেন, “রোহান আমাদের ছোট ভাই। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।”
রোহানের দাদা শহিদুল ইসলাম চৌধুরি বলেন, “রোহানের বাবা আমার ভাতিজা। ওর সঙ্গে প্রতিবেশীদের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ছিলে। সেই বিরোধের জেরে রোহানকে হত্যা করা হয়। দুপুরে স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে আসামিদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে।”
ইউএনও ফয়জুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গেছে। আগুন বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
