১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

যশোরে শামুক কুড়িয়ে চলে সংসার

ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে এসব শামুক প্রক্রিয়জিাত হয়ে ব্যবহার হচ্ছে চিংড়ি ও পাঙ্গাশ মাছের খাবার হিসেবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 09:16 PM

Updated : 15 Oct 2026, 09:23 PM

যশোরের শার্শা উপজেলায় খাল-বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন দরিদ্র পরিবারগুলো।

কাজের অভাবে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও এ কাজে যুক্ত হচ্ছে।

উপজেলার ডিহি, লক্ষণপুর, বাহাদুরপুর, শার্শা সদর ও নিজামপুর ইউনিনের বিভিন্ন খাল-বিল থেকে হেঁটে ও ডিঙি নৌকায় শামুক সংগ্রহ করেন তারা।

পরে কেজিপ্রতি মাত্র সাত টাকা দরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। এসব শামুক প্রক্রিয়াজাত করে চিংড়ি ও পাঙ্গাশ মাছের খাবার তৈরি করা হয়।

সংগ্রহকারীরা বলেন, একজন দিনে ৩০ থেকে ৭০ কেজি শামুক কুড়াতে পারেন। তবে এত কম দামে শামুক বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন। অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

শামুক সংগ্রহকারী জয়দেব চক্রবর্তী বলেন, বর্ষার সময় কৃষিকাজসহ অন্য কাজের সুযোগ কম থাকে। তাই পেটের দায়ে শামুক সংগ্রহ করছেন তারা। এ কাজ করে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে জানান তিনি।

নিজামপুর ইউনিয়নের পোতাপাড়ার পবন মণ্ডল বলেন, “মাঠে তেমন কাজ নেই। তাই বাধ্য হয়েই শামুক সংগ্রহ করছি। দিন শেষে শামুক বিক্রির টাকা দিয়ে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়।”

শামুক ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, আকরম আলী ও নিত্য মণ্ডল বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ শার্শার দুটি ব্যবসায়ী দল প্রতিদিন প্রায় ২০০ মণ শামুক কেনে। বর্ষার তিন-চার মাস এ ব্যবসা চলে।

ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন বলেন, তারা স্থানীয় সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনে বিভিন্ন জেলার বড় আড়তে বিক্রি করেন।

কামাল হোসেন বলেন, এসব শামুক খুলনার চেঁচুড়ি-কাপালিয়ায় বিক্রি করা হয়। সেখানে যন্ত্রের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে চিংড়ি ও পাঙ্গাশ মাছের খাবার তৈরি করা হয়।

তবে অতিরিক্ত শামুক সংগ্রহে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক ইউনুচ আলী।

তিনি বলেন, নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ করলে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সংগ্রহকারীদের বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি করা দরকার।

শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন, শামুক জলাশয়ের পানি পরিষ্কার রাখতে এবং জলজ প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, এলাকায় শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।