২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি’ করা এমপিদের এলাকাতেই সারের সংকট: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, “এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা এবং সমাধানে সময় প্রয়োজন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 05:28 PM

Updated : 29 Sep 2026, 05:28 PM

যেসব আসনের সংসদ সদস্যরা ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করেছিলেন সেসব এলাকাতেই সারের কৃত্রিম সংসদ দেখানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে তিনি বলেছেন, “যে সমস্ত জেলা থেকে বেহেশতিরা টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছে সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে।”

রংপুরের পীরগঞ্জে মঙ্গলবার সকালে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলায় সারের সংকট হয়নি। বগুড়াতে সারের সংকট হয়নি। রাজশাহী হয়নি, পাবনা হয়নি, নাটোর হয়নি, আপনার ময়মনসিংহ বিভাগে হয়নি, ঢাকা বিভাগে হয়নি, কুমিল্লায় হয়নি, সিলেটে হয়নি, বরিশালে হয়নি।

“মাত্র এই ১০ থেকে ১১টি জেলায় সারের সংকট আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক সরকার... জনগণের সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করবার জন্য তাদের দলের রাজনৈতিক কর্মী দ্বারা হইচই করিয়ে এই কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে।”

সংকট মোকাবিলায় নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেসব এলাকায় সারের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিদ্যমান ডিলারদের পাশাপাশি নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।”

প্রয়োজনে তিনি নিজে ডিলারদের গোডাউন চেক করবেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই তিনটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আপনাদেরকে কথা দিতে পারি যে এই জেলাগুলোতে যাতে ভবিষ্যতে সারের সংকট না থাকে, এটার জন্য আমি ক্লোজ মনিটরিং করব, দেখভাল করব। প্রয়োজনে আমি নিজে ডিলারদের গোডাউন চেক করব যে তারা মজুদ রেখেছে কিনা বা ঠিকভাবে জনগণকে দিচ্ছে কিনা।”

বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা এবং সমাধানে সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভঙ্গুর অর্থনীতি ছিল। অনির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দায় ও সময় বাড়িয়েছে, দেশের জন্য কোনো কাজ করেনি।’

পরে প্রতিমন্ত্রী রংপুরের বড়দরগার সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় যোগ দেন। বিকেলে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।