২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

উখিয়ায় নলকূপের গ্যাসের আগুন ২৪ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, আরও ছড়াচ্ছে

আগুনের সংস্পর্শে এসে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 07:41 PM

Updated : 28 Oct 2026, 07:41 PM

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় নলকূপ বসাতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলার ঘটনায় নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাস্থলের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি-বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার বিকালে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেছেন, গ্যাসের প্রবাহ শুধু নলকূপের গর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আশপাশের বিভিন্ন স্থান দিয়েও গ্যাস বের হচ্ছে। এ অবস্থায় গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।

এদিকে আগুনের সংস্পর্শে আসায় বিদ্যুতের একটি ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই লাইনের মাধ্যমে কক্সবাজারের উখিয়ার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিকল্প হিসেবে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ছোট ইনানী এলাকায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আগুন নেভানো যায়নি।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাসের প্রবাহ নলকূপের গর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা শিলার নমুনা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করার মতো পরিস্থিতি এখন নেই।”

আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বের হওয়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণে একাধিক বিকল্প বিবেচনা করছেন তারা।

এর আগে বাপেক্সের এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ভূগর্ভে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি বুঝতে নমুনা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্যাসের প্রকৃত উৎস এবং মজুদের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

গ্যাসের প্রবাহ একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত

গ্যাসের আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগুনের সংস্পর্শে এসে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাইজার নূর।

তিনি বলেন, ওই লাইন দিয়ে পাটোয়ার টেক উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ যায়। সেখান থেকে পাটোয়ার টেক, ছোট ইনানী, শফির বিল, বালিয়াডাঙ্গী, মনখালী ও শ্যামলাপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

কাইজার নূর বলেন, আগুনের কারণে সঞ্চালন লাইনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিপরীত দিক থেকে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করেছি। আজকের মধ্যে নতুন লাইন নির্মাণ করে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তবে আগুনের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের যন্ত্রপাতির সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আগুনের সংস্পর্শে থাকায় বিদ্যুতের লাইনটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

১৫ দিন আগে বসানো হয়েছিল নলকূপ

জমির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে তার বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ বসানো হয়েছিল। তবে নলকূপ বসানোর পরও পানি পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, নলকূপ বসানোর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা পরে সেখান থেকে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সকালে ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং আগুন জ্বলে ওঠে।

আব্দুল্লাহ বলেন, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।