২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শীতে স্থবির চুয়াডাঙ্গার জনজীবন, তাপমাত্রা নেমেছে ১০.৪ ডিগ্রিতে

শুক্রবার এই জেলায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ছয় ডিগ্রি। যা সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

শীতে স্থবির চুয়াডাঙ্গার জনজীবন, তাপমাত্রা নেমেছে ১০.৪ ডিগ্রিতে

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের কারণে রাস্তাঘাট থাকছে ফাঁকা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে আসছেন না।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Dec 2023, 10:36 AM

Updated : 17 Dec 2023, 11:52 AM

চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কয়েকদিন ধরে কনকনে ঠাণ্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলার জনজীবন।

শুক্রবার এই জেলায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ছয় ডিগ্রি থাকলেও রোববার তা নেমে এসেছে ১০ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, গত ছয়দিনে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির নিচে অবস্থান করছে। কখনো কখনো তা নেমে আসছে ১১ ডিগ্রির নিচে।

রোববার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

জেলায় সকাল থেকেই থাকছে ঘন কুয়াশা। সকালে তীব্র শীতের কারণে রাস্তাঘাট থাকছে ফাঁকা। বেলা বাড়লে রোদের দেখা মিলছে কিন্তু শীত থাকছে সারাদিনই। বিকেল থেকেই শীত জেঁকে বসছে। রাত ৯টা বাজার পর থেকে শহরে লোকজনের আনাগোনা কমে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে আসছেন না।

কনকনে বাতাসে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ আর ছিন্নমূল মানুষ। সকালে ও রাতে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন অনেকে।

তীব্র এই শীতে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষদের। কাজের সন্ধানে শীত উপেক্ষা করে তাদের ঘরের বাইরে আসতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রতন আলী বলেন, “তীব্র শীতে সকালে মাঠে গিয়ে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। মাঠে এখন আলু, ভুট্টা, বীজতলা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। রাতে এবং ভোরে ঘন কুয়াশা থাকছে। এতে ফসলের ক্ষতির ভয়ও আছে। বিশেষ করে বীজতলা নষ্ট হতে পারে। ”

অনেকে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক জানান, বিশেষ করে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময়ে শিশুদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। কোনোক্রমেই যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

“শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে এনে পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে,” বলেন এই চিকিৎসক।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল চুয়াডাঙ্গায়। শনিবার কিছুটা বেড়ে সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৩ ডিসেম্বর ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানান রাকিবুল।