গাইবান্ধায় পরাজিত প্রার্থীর এজেন্ট উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গাইবান্ধায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট সাঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার হাট ভরতখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সাঘাটা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান।
হামলায় আহত উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির (৫২) জেলা যুবলীগের সহসভাপতি। এ ছাড়া তিনি প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার ভাগ্নে।
গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে গাইবান্ধা হাসপাতালের চিকিৎসক তানভীর রহমান জানান।
চিকিৎসক বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের দুই পা ও ডান হাত ভেঙে গেছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জখম হয়েছে।
হামলার সময় জাহাঙ্গীর কবিরের মা বেলী বেগম ছেলের সঙ্গে ছিলেন।
বেলী বেগম বলেন, ফুলছড়ি উপজেলার গটিয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের জানাজা থেকে মা-ছেলে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ওই এলাকায় ২০-২৫ জনের একটি দল অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে জাহাঙ্গীরকে জোর করে নামিয়ে লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার দুই পা ও ডান হাত ভেঙে যায়; শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
তিনি আরও বলেন, “এ সময় আমার ছেলেকে না মারার জন্য আমি তাদের বারবার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথাই শুনেনি।”
এদিকে, জাহাঙ্গীর কবিরের স্ত্রী সাদিয়া বিশ্বাস বলেন, তার স্বামী গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা রাব্বী বুবলীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। এ কারণে এই হামলা হয়েছে।
সাদিয়ার অভিযোগ, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপনের সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে মাহমুদ হাসান রিপনের মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।
রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাঘাটা থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে; গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এটি নির্বাচন পরবর্তী সহিসংতার অংশ কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।”
