২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে ৬ বালুমহালের অফিসে ‘হামলা-লুটপাট’, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোটরসাইকেলে করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল গিয়ে বালুমহালগুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 12:18 PM

Updated : 26 Oct 2026, 12:18 PM

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ছয়টি বালুমহালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মোহাম্মদ আল হাসিবের অনুসারীদের ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিভিওটি পুরানো বলে দাবি করছে পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই এলাকায় শনিবার সকালে সাইফিয়া দরবার শরীফ এলাকায় মিছিল হয়। এরপর সন্ধ্যায় ওই একই রাস্তার ফেরীঘাট এলাকার বালুমহালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেনের অভিযোগ, ছাত্রলীগের ওই মিছিলের পর সন্ধ্যায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বালুমহাল এবং অন্যান্য বালুমহালে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

তবে ছাত্রদলের দাবি, তারা এই ভাঙচুরে জড়িত নয় বরং এটি ছাত্রলীগ-যুবলীগের ‘সাজানো নাটক’।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মজুচৌধুরীহাট এলাকার ছয়টি বালুমহালের অফিস মূলত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে বা মালিকানায় ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল মজুচৌধুরীহাট ফেরীঘাট এলাকায় বালুমহালে গিয়ে এ হামলা চালায়। তাদের হাতে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল।

তবে হামলাকারীদের নাম-পরিচয় কেউ নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি।

সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেনের ভাষ্য, “সন্ধ্যায় আমার বালুমহালের অফিসে হামলা চালানো হয়। এ সময় বেচাবিক্রির টাকা-পয়সা, সিসিটিভি ক্যামেরা, মনিটর, হার্ডডিস্ক এবং খাতাপত্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

“এ ছাড়া আরও কয়েকটি বালুমহালে হামলা হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে ছাত্রদল জড়িত বলে জানতে পেরেছি।”

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই।

“পরে তিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভকে ফোন দিতে বলেন। সৌরভকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।”

এ বিষয়ে জানতে আবুল বারাকাত সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মিছিল করে। পরে পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে কাউকে পায়নি।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এ ছাত্রদল নেতা বলেন, “সন্ধ্যায় ফের ছাত্রলীগের লোকজন বালু মহাল এলাকায় অবস্থান নেয়৷ খবর পেয়ে ছাত্রদল ঘটনাস্থল যায়। তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল জড়িত নয়। হামলার ঘটনা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নাটক হতে পারে।”

রোববার সকালে মজুচৌধুরীর হাট সড়কের সাইফিয়া দরবার শরীফ এলাকায় শেখ হাসিনার ‘প্রত্যাবর্তন-২.০’ ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মোহাম্মদ আল হাসিবের অনুসারীরা।

পরে মিছিলের ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলটি শনিবারের নয় বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুরের ওসি ওয়াহিদ পারভেজ।

তিনি বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

“এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলটি রোববার নয়। অন্য কোনো দিন মিছিল করে পুরনো ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড করেছে। কারণ মিছিলের ঘটনাস্থলে পুলিশ টহলে ছিল।”