১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে কেন হত্যা, বুঝতে পারছে না পরিবার

পরিবারের স্বজন, প্রতিবেশীরা মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার বাড়িতে ভিড় করেন।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Apr 2026, 01:17 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:29 PM

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে খুনের শিকার নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।  

শনিবার বৃষ্টির খুনের সংবাদ পাওয়ার পর থেকে পরিবারের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার বাড়িতে ভিড় করেন। 

তারা মেধাবী ছাত্রী বৃষ্টিকে কেন হত্যা করা হল সেটা যেমন বুঝতে পারছেন না, তেমনি এমন পরিণতিও মেনে নিতে পারছেন না। 

বিকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা বিলাপ করছিলেন। তাদের সান্ত্বনা দিতে আসা প্রতিবেশীদের চোখেও ছিল জল। 

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ওই এলাকার জহির উদ্দিন আকন ও আলভী বেগম দম্পতির মেয়ে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জাহিদ হাসান প্রকৌশরী। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

স্বজনরা জানান, জহির উদ্দিন আকন পরিবার নিয়ে বহু বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে থাকেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঈদ উপলক্ষে সবাই গ্রামের বাড়িতে আসতেন। তিনি ঢাকায় একটি জীবন বিমা কোম্পানিতে চাকরি করেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার লিমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবারকে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।

বৃষ্টির লাশ পাওয়া না গেলেও তার পরিবার সিবিএস নিউজকে বলেছে, ‘বৃষ্টিও সম্ভবত বেঁচে নেই’ বলে মার্কিন পুলিশ তাদের জানিয়েছে।

এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার দুই অভিযোগ আনা হয়েছে লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সি হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে। শুক্রবার লিমনের লাশ পাওয়ার পরই আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার সকালে বৃষ্টির নিহতের খবর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।  

বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, “বৃষ্টি আপু অনেক মেধারী ছিলেন। অনেক ভালো ছিলেন। সকালে জাহিদ ভাইয়া (বৃষ্টি বড় ভাই) তার ফেইসবুকে আপু মারা যাওয়া নিয়ে পোস্ট দেন, তা দেখে আমরা প্রথমে জানতে পারি। 

“তবে এর আগে থেকেই আপু নিখোঁজ ছিলেন। কিভাবে, কেন তাকে হত্যা করা হল, তা আমরা কিছুই জানি না। তার এক সহপাঠীকেও হত্যা করা হয়েছে। শুনেছি তার লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু আপুর লাশ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”

নিহতের আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, “আমরা কিছুতেই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের শাস্তি চাই। আর বৃষ্টির লাশ দেশে আনার দাবি জানাই।”

একই দাবি জানান নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন। 

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকনের বরাত দি‌য়ে দানিয়াল আকন বলেন, ২০২৫ সালের ১২ অগাস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায় বৃষ্টি। পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হত। 

তিনি বলেন, “আমাদের মেয়ে আর বেঁচে নেই। এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বৃষ্টি নামে মাদারীপুরের এক শিক্ষার্থী আমেরিকায় মারা গেছেন। এ ক্ষেত্রে মূল কাজ করবে দূতাবাস। আমার কাছে তার পরিবার যদি কোনো সহযোগিতা চায়, আমি সেটা করব। দূতাবাস যদি স্থানীয় কোনো তথ্য চায় সেটাও দিতে পারব।”