১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম করল ‘মাদকের আসামি’

“পাইলসের অপারেশন করানোর জন্য বরিশালে যাব বলে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে পারিনি।”

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 05:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদক মামলায় নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের মামলার আইনজীবীকে কুপিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

রোববার সন্ধ্যায় আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া স্লুইজগেইট বাজার সংলগ্ন ওই আইনজীবীর বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানিয়েছেন। 

আহত আইনজীবী মো. সামিউল আলিমকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

মামলার আসামি মো. জাকির ফরাজি (৪৫) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুবিদখালী গ্রামের মোতালেব ফরাজির ছেলে এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। 

মামলার এজাহার ও আহত আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাকির ফরাজির বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় তিনি একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। মামলা পরিচালনার জন্য তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার মামলা পরিচালনার জন্য মো. সামিউল আলিমকে আইনজীবী নিয়োগ করেন

রোববার মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। তবে আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে জাকির ফরাজির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আইনজীবীর বাসার সামনে একটি দোকানে বসা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করেন জাকির ফরাজি। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আইনজীবী মো. সামিউল আলিম বলেন, “রোববার মামলার তারিখ ধার্য তারিখ ছিল। শনিবার আসামি মো. জাকির ফরাজিকে হাজির হওয়ার জন্য ফোন করলে তিনি জানান যে, হাজিরা দিতে পারবেন না। 

“পরে আমি আদালতে সময়ের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয় আমারে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে।”

আসামি জাকির ফরাজি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পাইলসের অপারেশন করানোর জন্য বরিশালে যাব বলে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে পারিনি।”

তার ভাষ্য, “মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবর শুনে মাথা গরম হয়ে যায়। তাই আইনজীবীর কাছে বিষয়টি জানতে যাই। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির সময় তিনি পড়ে যান এবং পা কেটে যায়। এর বাইরে আর কিছুই হয়নি।”

জাকির বলেন, “আমি ১৯৯৮ সালে সুবিদখালী কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি এর পর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে আছি।”

ওসি তৌহিদুজ্জামান বলেন, “আদালতের একটি মামলায় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের মামলার আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম করেছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।