Published : 14 Sep 2026, 07:38 PM
স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক প্রকৌশলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বরিশালের একটি আদালত।
এ ছাড়া হত্যার পর আলামত নষ্টে সহায়তা করায় এক আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মহসিন মন্টু।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাজেমহল গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রশিদ মুন্সীর ছেলে প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এবং আবাসিক হোটেল আলীর সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম বলেন, ২০১০ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু প্রকল্পের কাজের তদারকির জন্য স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে বরিশালে আসেন প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পরে স্ত্রীকে নিয়ে নগরের আবাসিক হোটেল আলীর পঞ্চম তলার একটি ভিআইপি কক্ষে ওঠেন তিনি। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি হোটেল কক্ষ থেকে শোভার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন শোভার ছোট বোন নিলুফার আইরিন জুমু বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন বলে জানান বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন দুইজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বলে জানান তিনি।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে শোভার স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছর কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মন্টু।
এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও চার মাস কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
রায়ে বাদীপক্ষ খুশি বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান।