Published : 04 May 2026, 05:49 PM
দুর্নীতির মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-পিআইও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বলেন, রোববার রাতে দুদকের একটি দল তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পাবনা সদর থানায় রাখে।
সোমবার দুপুরে পাবনা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি।
আবুল কালাম আজাদ পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুদক জানায়, ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। তারা ৩ জুলাই সেই হিসাব দাখিল করেন।
২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন।
মামলায় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এক কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে এক কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে। ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধেও এক কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া, আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামেও অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার কাছে সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়। পরে তিনি ৮ ডিসেম্বর সম্পদের হিসাব জমা দেন।
দুদকের অনুসন্ধানে তার ঘোষিত সম্পদের চেয়ে বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আরেকটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান আসামি এবং আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।