ফেনীতে বিএনপির একপক্ষের শোভাযাত্রায় প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ১৫
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিজয় শোভাযাত্রায় একপক্ষের মিছিলে অপরপক্ষের সমর্থকরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করে দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি। এটি উপজেলা শহরের চৌমুহনী রোড থেকে দাগনভূঞা পৌরসভার জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে দলেরই অপর একটি পক্ষ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে।
একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বেধড়ক পিটুনি দিলে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জাহানারা বেগম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইমুন হক রাজীব, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক, ইঞ্জিনিয়ার সোহেলসহ প্রায় ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ সময় একাধিক নেতাকর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন, আবুল হাশেম বাহাদুর, ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত জামশেদুর রহমান ফটিক ও তাদের লোকজন অতর্কিতে হামলা করে। এতে ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
তিনি বলেন, “এদের মধ্যে যুবদল কর্মী ইঞ্জিনিয়ার সোহেলের অবস্থা গুরুতর। আমাদের উপর হামলা হলেও সংঘাত এড়াতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিবাদ করিনি। এ ঘটনায় আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
হামলার বিষয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন বলেন, “সকাল থেকে উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীরা রক্তদান কর্মসূচি পালন করেছে। বিএনপির একটি পক্ষ মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কিছু নেতাকর্মী আমাদের কটাক্ষ করে মন্তব্য করে। তখন আমাদের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা তা নিবৃত্ত করি।
“তাদের হামলায় বেলাল, সিফাত, মিলনসহ আমাদের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক যে অভিযোগটি করেছেন, সেটি সত্য নয়। তাদের মিছিলে আমাদের পক্ষ থেকে কেউ হামলা করেনি।”
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম সোহরাব আল সোহাইন তানভীর বলেন, হামলায় আহত ১২ নেতা-কর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর ১১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, বিকেল পর্যন্ত থানায় এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
