জয়পুরহাটে জমির বিরোধে ‘ভাইদের পিটুনিতে’ আহত নারীর মৃত্যু
ঘটনার সাত দিন পর বগুড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জয়পুরহাট সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাইদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া গোপনে লাশ দাফনের চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ঘটনার সাত দিন পর সোমবার ভোরে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট সদর থানার এসআই আবু নেওয়াজ সরদার।
নিহত বিলকিস বেগম উপজেলার হরিপুর-তু-পাড়া গ্রামের প্রয়াত হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী।
এসআই আবু নেওয়াজ বলেন, “হামলার ঘটনায় আগেই মামলা হয়েছে। এখন ওই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুপান্তর হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলেকে নিয়েই চলছিল বিলকিস বেগমের সংসার। পৈতৃক সূত্রে তিনি ৩৯ শতক জমি পেলেও ভাইয়েরা তা দিতে অস্বীকার করেন।
৩১ অগাস্ট ওই গ্রামের মাঠে নিজ জমিতে চাষাবাদ দেখতে গেলে বিলকিসকে বাধা দেন তার তিন ভাই রুহুল আমিন, জয়নাল আবেদীন ও কোরবান আলী। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কোদাল দিয়ে বিলকিসের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বিলকিসের ছেলে হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “গুরুতর অবস্থায় মাকে প্রথমে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ভোর রাতে মা মারা যান।”
একই এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান বুলু, আবু শাহজালাল, মিন্টু বলেন, বিলকিসের মৃত্যুর পরও যেন শেষ হয়নি ঘটনার নির্মমতা। আইনি ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে ভোরে গোপনে বিলকিসের লাশ প্রথমে গুম ও পরে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে ভাইয়েরা লাশ রেখে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পলিয়ে গেছেন বিলকিসের তিন ভাই। বাড়িতে গেলেও দেখা মেলেনি তাদের।
বিলকিসকে মারধরের পরদিন ১ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা করা হয়। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। সেইসঙ্গে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
