১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিতে শাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 07:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জুলাই আন্দোলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণসহ দুই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এ কর্মসূচির পালন করেন তারা।

দাবিগুলো হল- ১. শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে ৫ অগাস্ট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে।

২. শহীদ রুদ্র সেন লেক নামে একটি স্থায়ী, সুস্পষ্ট ও নান্দনিক নামফলক স্থাপন করতে হবে; যাতে সেখানে বিদ্যমান ‘SUST’ লেখাটি যেভাবে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত হয়েছে, ঠিক একইভাবে ‘শহীদ রুদ্র সেন লেক’ নামটিও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে। একইসঙ্গে লেক সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং লেকের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাবিপ্রবির একমাত্র শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিতে দুই বছর ধরে আন্দোলন করতে হচ্ছে। 

“১৮ জুলাই তার আত্মত্যাগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শোককে শক্তিতে পরিণত করেছিল। সিলেটের গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করতে তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও স্মৃতি সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মাহমুদ বলেন, “যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে কেউ এমন আন্দোলনে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে না। রুদ্র হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের কষ্ট ও আক্ষেপের কথা শুনেছি।

“জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো তার স্মৃতি সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা দ্রুত শহীদ রুদ্র সেনের নামে স্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপন ও তার প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দুই দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা একটা স্মারকলিপি দিয়েছে। আমরা তাদের দাবিগুলো দেখে ব্যবস্থা নিব।”

রুদ্র সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমি কৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। চব্বিশের ১৮ জুলাই পুলিশ ও ছাত্রলীগের ধাওয়ায় খালে পড়ে রুদ্র সেনের মৃত্যু ঘটে।