Published : 30 Jul 2026, 10:10 PM
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় বিয়ের আসরে এক তরুণী এসে বরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দাবি করার পর সেই বিয়ে ভেঙে যায়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বরের বাবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
বুধবার উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
নিহত সুরুজ মিয়া (৫৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পাশের হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। বুধবার দুপুরে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুড়িগ্রামের দুজন তরুণী এসে সেখানে উপস্থিত হন।
তাদের মধ্যে এক তরুণী নিজেকে হেলাল মিয়ার প্রেমিকা বলে দাবি করেন।
তার দাবি, হেলালের সঙ্গে তার প্রায় ১০-১১ মাস সম্পর্ক ছিল এবং তারা একসঙ্গে থেকেছেন। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হেলাল মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় সেই বিয়ে হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিয়ে ভেঙে যায়। বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের আয়োজনের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাতে বাড়ির পাশে একটি আমগাছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।