১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: ৩ জনের যাবজ্জীবন

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 06:50 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) এবং একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।

সাজার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। 

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পরে তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বোয়ালমারী উপজেলার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মণ্ডলের বাগানের কাছে আসে। তার ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্রীটি সেখানে গেলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অন্য আসামিরাসহ তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

পরে আসামিরা তাকে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে। এক পর্যায়ে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে নৌকায় করে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরদিন এ ঘটনায় বেয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, “আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”