Published : 06 Sep 2026, 03:04 PM
ঢাকার সাভারের আমিন বাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার ভোরে আমিন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন।
এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিন বাজারের বরদেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় গেঞ্জি তৈরির কারখানার সামনে একটি প্রাইভেট কার রাখা নিয়ে দুই পক্ষের ঝামেলা মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার হন এসবির এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে।
পরে আরও লোকজন নিয়ে এসে আলতাফকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ৫৮ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিন বাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় থাকতেন।
আলতাফ এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আহত তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬) ওই গেঞ্জি কারখানাটি পরিচালনা করতেন।
আরিফুল ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ বলছে, আমিন বাজারের বরদেশি এলাকায় এক বৃদ্ধ রিকশাচালক রিকশা ঠিক করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে ওই বৃদ্ধ ও রিকশাকে ধাক্কা দেয়। বিষয়টি দেখে কাছেই থাকা এসবি সদস্য আলতাফ হোসেন এগিয়ে যান এবং প্রাইভেটকারে থাকা লোকজনের এমন বেপরোয়া আচরণ ও বৃদ্ধকে আঘাত করার প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদ করার এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারে থাকা ৪-৫ জন ব্যক্তি আলতাফ হোসেনের ওপর চড়াও হয়। পরে আরও লোক নিয়ে এসে তাকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
পরে তাদের রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আলতাফকে হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রিকশা গ্যারেজের মালিক আবুল কালাম বলেন, “প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে নিজের গেঞ্জির কারখানায় ঢুকে পড়েন। তখন হামলাকারীরা কারখানায় ঢুকে মেশিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় তারা আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফকে এলোপাতাড়ি মারধর করে চলে যায়।
“পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে রাধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।”
আরিফ ওই গেঞ্জি তৈরির কারখানাটি পরিচালনা করতেন বলে আবুল কালাম জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ মামলায় জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাকি সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সোলায়মান গাজী বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমাদের টিম ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। এখনো তেমন কিছু পাইনি। বিস্তারিত পরে জানাব।”