Published : 12 Sep 2026, 05:07 PM
কুষ্টিয়ায় হঠাৎ পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্ধ রয়েছে ৩১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে তিন সেন্টিমিটার; যা রোববার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে হার্ডিঞ্চ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, “অতি বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সাময়িক সময়ের জন্য পদ্মার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের চর এলাকায় পানি ঢুকেছে।
“তবে এতে বড় ধরনের কোনো শঙ্কার বার্তা আমাদের কাছে নেই। আগামী দুই একদিনের মধ্যেই পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি নেমে যাবে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।”
দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদ বলেন, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়া বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াত এবং দুটি ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনে পানি ঢুকেছে। এতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দুটি মাদ্রাসা এবং চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকলেও স্কুল খোলা রাখা হয়েছে।
তবে নিম্নাঞ্চলের প্লাবিত জনগণ প্রয়োজনে বিদ্যালয়গুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, উপজেলার চিলমারি এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পদ্মা নদী তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই বন্যার সময় বিরূপ প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। তবে চাষিরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। ফলে সামগ্রিক ফসলহানির হাত থেকে বাঁচতে পারেন কৃষকরা।
শনিবার পর্যন্ত ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হলেও এর মধ্যে সাকুল্যে ৩০ ভাগ জমিতে কলা এবং সবজি জাতীয় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ফসল পুর্নবাসন সহায়তার আওতায় কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেহানা পারভীন।
দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, তিন দিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের দুটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
“উপজেলার নিম্নাঞ্চলের চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আক্রান্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনে পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তায় ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে”, বলেন তিনি।
তবে এদিন দুপুর পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় কোনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।