বেনাপোলে ‘প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা’ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য

গত অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থেকে যায় ৫৫৮ কোটি আট লাখ টাকা।

বেনাপোল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 12:17 AM
Updated : 31 July 2022, 12:17 AM

বেনাপোল শুল্কভবনে চলতি অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড – এনবিআর।

বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে বেনাপোল শুল্ক ভবনের জন্য দেওয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। তবে বছরের শেষের দিকে রাজস্ব পূরণে শঙ্কা দেখা দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে পাঁচ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

“এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৩০ জুন অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থেকে যায় ৫৫৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) লক্ষ্যমাত্রা ৮০৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।”

এবারও একই শঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। অবকাঠামোসহ নানা অনিয়মের কারণে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সফলতা আসবে না বলে মনে করছেন তারা।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশের স্থল বাণিজ্যের ‘৮০ শতাংশ’ পণ্য আমদানি হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

“অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল দিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ করাও সম্ভব।”

বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামছুর রহমান জানান, ৫৯ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার বন্দরে প্রতিদিন দুই লাখ মেট্রিক টন মালামাল ওঠানো ও নামানো হয়।

তিনি বলেন, "প্রতিদিন যেখানে পাঁচশ’ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢোকার কথা, সেখানে জায়গা সংকটের কারণে ঢুকছে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ ট্রাক। ফলে ভারত থেকে আসা ট্রাকগুলো পণ্য খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে আট থেকে ১০ দিন।"

এই বাস্তবতায় স্থলবন্দরটিতে পণ্য রাখতে কমপক্ষে ৩০টি শেড, হেভি স্টক ইয়ার্ড এবং কোল্ড স্টোর নির্মাণ জরুরি বলে মনে করেছেন সিঅ্যান্ডএফ সভাপতি শামছুর রহমান।

“বন্দরের সক্ষমতা না বাড়ালে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা বারবার বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কর্ণপাত করছে না।"

বন্দরের সক্ষমতা বাড়ালে এবং কাস্টমসের হয়রানি বন্ধ হলে এই বন্দর থেকে দ্বিগুণ রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ীও।

তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণের আশা জানিয়ে শুল্ক বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, গত অর্থবছরে করোনা মহামারীর কারণে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকা এবং শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ, রাজস্ব বেশি আসে এমন পণ্য কম আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

অবকাঠামোগত সমস্যা দূর হলে রাজস্ব বোর্ডের টার্গেট পূরণ সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্দরের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে এসব কাজ শেষ হতে আরও দুবছর সময় লাগবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফট কিনতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।"

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক