Published : 27 Jul 2025, 11:52 AM
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় দশ দফা দাবিতে ‘আরএকে সিরামিক’ কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। পরে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রোববার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কের শ্রীপুরের নয়নপুর (ধনুয়া) এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এতে সড়কের দুপাশে যানবাহন আটকা পড়ে অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আব্দুল লতিফ বলেন, “টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
শ্রমিকদের ১০ দফা দাবিগুলো হল- চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বেতনের সঙ্গে ইনক্রিমেন্টের ৭ মাসের এরিয়ার বিল অগাস্ট মাসের ১ তারিখের মধ্যে দিতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক পদে সঠিক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে এবং যোগ্য পদে অযোগ্য লোক থাকলে তাকে অতিদ্রুত অপসারণ করতে হবে, প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মানসম্মত বাড়তি বেতন নিশ্চিত করতে হবে, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলনরত অবস্থায় শ্রমিকরা যতদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবে ততদিনই কার্যদিবস বা হাজিরা দিতে হবে।
এছাড়া নতুন ও পুরোনো শ্রমিকদের জন্য সঠিক বেতনকাঠামো প্রণয়ন, সিভিল কর্মীদের ন্যূনতম হাজিরা ৫০০ টাকা নির্ধারণ, মাসিক হাজিরা বোনাস ১ হাজার ৫০০ টাকা করা, আন্দোলনের পর কাউকে চাকরিচ্যুত না করা, বয়স্ক ভাতাসহ পুরোনো সব সুবিধা চালু এবং কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের ভারতীয় কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব দাবি জানিয়ে আসলেও কারখানা কৃর্তপক্ষ মানছে না; কোনো সমাধানেও আসছে না। কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকদের আন্দোলনের খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা পুলিশের কথায় কান না দিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, “শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা সড়ক না ছাড়ায় কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যায়। এরপর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকাল সাড়ে ৮টায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।”
আরএকে সিরামিক কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কর্তৃপক্ষকে সময় না দিয়ে কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে।