Published : 01 Aug 2026, 01:23 PM
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ৮৪ বছর বয়সি বৃদ্ধের মরদেহ ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ইছামতি নদীর খারহাট এলাকায় মাছ ধরার সময় এক জেলে নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন বলে জানিয়েছেন কালিগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।
মারা যাওয়া পিয়ার আলী গাজী কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত ছফেদ আলী গাজীর ছেলে। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মানসিকভাবেও অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
নিহতের ছেলে আব্দুস সবুর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা। পরে জানা যায় তিনি জাল নিয়ে কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গেছেন।
তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গ্রামবাসীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালালেও কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে বৃদ্ধ পিয়ার আলী নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এগিয়ে আসেন আশে পাশের গ্রামের বাসিন্দারাও। শুক্রবার ভোর থেকে স্বজন, ফায়ার সার্ভিস, কালীগঞ্জ থানা পুলিশ, বসন্তপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য, খুলনা থেকে আসা একটি বিশেষ ডুবুরি দলের পাশাপাশি শত শত গ্রামবাসীও নদীর পর নদী খুঁজেছেন তাকে।
শত মানুষের প্রার্থনা ছিল- হয়তো জীবিত ফিরবেন তিনি। কিন্তু দিনভর দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা নেমে আসে। পরে সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর খারহাট এলাকায় এক জেলে নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে আব্দুস সবুরকে খবর দেন। পরে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
আব্দুস সবুর বলেন, “৩৬ ঘণ্টা ধরে বাবাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করেছি। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরে পেলাম, কিন্তু তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।”
পিয়ার আলীর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বসন্তপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।