১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্ষণের শিকার শিশুর কন্যাসন্তান: ডিএনএ প্রতিবেদনসহ সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে তার ভাই মাইমুন মিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 10:34 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:01 PM

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও গর্ভধারণের মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

বৃহস্পতিবার শেষ বিকালে দেওয়া অভিযোগপত্রে বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সঙ্গে তার ভাই মাইমুন মিয়া ওরফে মামুন মিয়ার (৩২) বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার কথা বলা হয়েছে। 

নেত্রকোণা জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এসআই মো. আক্তারুজ্জামামান অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০)-এর ৯ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল বলেন, বিচারক আব্দুস সালাম রোববার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন দিবেন।

মামলায় বলা হয়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। পরে ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সাগর। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায়। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সোমবার সেই ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসেছিলেন নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেলের কক্ষে।  

তখন আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, “এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমার মতামত নেওয়ার জন্যে আসেন। তখন ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির পরীক্ষার প্রতিবেদনটি আমি দেখি।

“প্রতিবেদনে ১১ বছরের শিশুটির সন্তানের ও আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে। অর্থাৎ ১১ বছরের শিশুটির কন্যাসন্তানের ‘জৈবিক বাবা’ আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এটা প্রমাণিত হয়েছে।” 

আরও পড়ুন: 

ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুর কন্যাসন্তান : 'ডিএনএ বলছেসেই মাদ্র

'ধর্ষণেঅন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের ছাত্রীমাদ্রাসা শিক্ষকের ডিএনএ সং

'ধর্ষণেঅন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের ছাত্রীনেত্রকোণার সেই মাদ্রাসা

ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুর কন্যাসন্তান : 'ডিএনএ বলছে, সেই মাদ্র

'ধর্ষণে' অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের ছাত্রীনেত্রকোণার সেই মাদ্রাসা

নেত্রকোণায় ছাত্রী 'ধর্ষণ': টাকা দিয়ে মীমাংসা চেয়েছিলেন সেই মাদ্রা