১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বরগুনায় সড়ক সংস্কারে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে অবরোধ

সড়কের ওপর বাঁশ বেধে স্থানীয়রা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যারজট সৃষ্টি হয়।

বরগুনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Feb 2026, 03:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:00 PM

বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের সংস্কার কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। 

সোমবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার নিশানবাড়িয়ার ক্রোক এলাকায় সড়কের ওপর বাঁশ বেধে স্থানীয়রা যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরগুনা সদর উপজেলার প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। 

দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বছর ধরে সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। ধীরগতির কাজে সড়কের ধুলোবালিতে সড়কের দুই পাশের বাসা বাড়ি নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাজুড়ে এখনও উড়ছে ধূলাবালি, আর সেই ধুলায় অতিষ্ঠ পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহন চালকরা। 

তাই তারা দ্রুত কাজ আদায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।  

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সড়ক প্রকল্পের জন্য ৩২ কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।  

নিশানবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, “রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তা দিয়ে এখন আর মানুষ চলাচলের কোনো উপায় নেই। 

“রাস্তায় নামলেই ধুলোয় মেখে যেতে হয়। তাই শুধু আশ্বাস দিয়ে আর লাভ নেই, আমরা দ্রুত কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”

সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর হোসেন বলেন, “দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমরা খুব কষ্টে আছি। আমার বাসা এখান (শহর) থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে, এই ৬০০ মিটার আমি আসতে গেলে আমার গায়ের জামা একদম লাল হয়ে যায়। 

“রাস্তার পাশেই আমার দুটো মাছের ঘের। এই রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় আমি মাছ চাষ করতে পারি না, রাস্তার ধুলোয় পানি নষ্ট হয়ে আমার মাছ মারা যায়।”

“আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই আমাদের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাব” -বলেন তিনি।

পরীর খাল এলাকার অটোরিকশা চালক জসীমউদ্দীন বলেন, “আমি এই রাস্তায় অটো চালাই, একদিন এক গর্ভবতী অসুস্থ যাত্রী নিয়ে বরগুনা হাসপাতালে যাওয়ার পথে আমার গাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন। রাস্তা খারাপ থাকায় আমি দ্রুত তাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি নাই।” 

এ দিকে খবর পেয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরগুনা সদর উপজেলার প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে যান। তবে স্থানীয়রা তাকে দেখে আরও ক্ষুদ্ধ হন। 

পরে প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। 

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারের প্রতিনিধি কারাগারে থাকায় কাজে ধীরগতিতে চলছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হবে।

তিনি দুয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু করে আগামী এক মাসের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ২টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।