Published : 29 Dec 2025, 02:58 PM
“কনকনে ঠান্ডায় হাত-পা শুলায়, অবস হয়ে আসে। শীতের কষ্ট আর সহ্য হয়না বাহে। হামাক তোমরা গরম কাপড় আর কম্বল দেও।” ভাঙ্গা টিনের ঘরে বসে এসব কথা বলছিলেন নিয়তি রাণী মোহন্ত।
৬০ বছর বয়সী নিয়তির বাড়ি কুড়িগ্রাম পৌর সভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন চৌধুরী পাড়ায়। পলিথিন দিয়ে ঘেরা তার ঘরে ফাঁকফোকর দিয়ে ঢোকে হু হু করে ঠান্ডা হিম বাতাস। সরকারের খাস জমিতে এই ভাঙা ঘরটুকুই তার একমাত্র সম্বল।
কুড়িগ্রামে হিমেল হাওয়ার দাপটে জেঁকে বসেছে শীত। চৌধুরী পাড়ায় খাস জমিতে ২০টি পরিবার শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে।
তাপমাত্রা কমতে থাকায় বেড়েছে তীব্রতা। টানা ছয়দিন থেকে সারাদিন সূর্যের দেখা নেই। প্রকৃতি কুয়াশার চাদরে ঢাকা।
রোববার সকালেও জেলায় কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরছিল। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে।
সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
তিনি বলেন, “এরকম আবহাওয়া আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।”
চৌধুরী পাড়ার আরেক বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী রহিমা বেওয়া বলেন, “সেই ঠান্ডা বাবা। কেমন করি বাঁচি। হাত-পা কামড়ায়। কন কনে হানে, অবস হয়া যায়।
“যখন আর সহ্য হয় না তখন পানা বা জঙ্গল আনি আগুন দিয়া হাত পা সেখি। ঠান্ডায় কাপতেছি আল্লাহ হামাকগুলাক চোখে দেখে না! মরায় ভালো। খুব কষ্ট।”
ওই এলাকার আরেক অনিতা রাণী মোহন্ত অভিযোগ করে বলেন, সরকারি খাসের জায়গায় ১০ হাত লম্বা আর ৫ হাত প্রসস্থ ভাঙা ছাপড়া ঘরটাই তার একমাত্র সম্পদ। তার নামে ভিজিডি কার্ড, ভিজিএফ কার্ড বা বয়সকো ভাতা কোনো কিছুই নাই। এই হাড়কাঁপানো শীতে মেলেনি গরম কাপড় কিংবা কোনো কম্বল।
আক্ষেপের স্বরে তিনি প্রশ্ন করেন, “আর কত গরীব হলে আমরা সরকারি সাহায্য পাবো?”