Published : 12 Jul 2025, 01:21 PM
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ক্ষেত থেকে কচু তোলাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইকে এবং সুন্দরগঞ্জে আম পাড়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে চাচাকে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামে এবং রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা (মাঝবাড়ি) গ্রামে ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, মীরপুর গ্রামের আফজাল হোসেন ওরফে দুলা মাস্টারের ছেলে ফুয়াদ হোসেন (৪৫) এবং তালুক বেলকা (মাঝবাড়ি) গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪৪)।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, মীরপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুর ছেলে মামুন মিয়া ও মেয়ে মুক্তা বেগম। তাদের চাচাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন।
বাবা নুরুল ইসলামের কাছ থেকে সম্প্রতি ১৭ শতক জমি বন্ধক ও ১৮ শতক জমি বর্গা নেন মুক্তা বেগম। সে জমিতে কচু চাষ করেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে মুক্তা তার স্বামী শাহারুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ওই ক্ষেত থেকে কচু তুলছিলেন। এ সময় তার ভাই মামুন কচু তুলতে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে মামুন বোনকে মারপিট করতে শুরু করলে চাচাতো ভাই ফুয়াদ ও তার স্ত্রী সান্তনা বিবাদ থামাতে এগিয়ে আসে। এ সময় মামুন তার হাতে থাকা কাঁচি দিয়ে ফুয়াদের বুকে আঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফুয়াদ মারা যান।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামুন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, বাড়ির গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে নছিরন বেওয়াকে গালিগালাজ করেন তার ছেলে ইব্রাহিম আলী।
এ ঘটনায় নছিরন বেওয়ার আরেক ছেলে জিয়ারুল ইসলাম প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইব্রাহিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম এসে চাচা জিয়ারুলের বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে জিয়ারুলের স্ত্রী আছমা বেগম ও ছেলে ইসমাইল হোসেনকেও ছুরিকাঘাত করেন সাইফুল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। জড়িতকে গ্রেপ্তার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।