১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খালের বাঁধে ধস, ৯০ একর আমন ক্ষেত পানিতে

বাঁধে ইঁদুরের গর্তে পানি প্রবেশের এক পর্যায়ে ধসে গেছে বলে জানান কৃষকরা।

নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খালের বাঁধে ধস, ৯০ একর আমন ক্ষেত পানিতে
নীলফামারীর খানিয়ালখাতার খালুয়ার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের বাঁধ ধসে  রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jul 2025, 10:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

নীলফামারী সদর উপজেলায় তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে প্রায় ৯০ একর জমির রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

রোববার সকালের দিকে উপজেলার খানিয়ালখাতার খালুয়ার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান।

এলাকাবাসী জানান, দিনাজপুরে তিস্তা সেচ ক্যানেলের একদিকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভাঙন। বিকাল পর্যন্ত ক্যানেলটির অন্তত ৪০ ফুট ধসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খানিয়ালখাতার কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, ক্যানেলের বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ইঁদুরের গর্ত রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার ক্যানেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।

সকাল থেকে সেই ইঁদুরের গর্তে পানি প্রবেশ করার এক পর্যায়ে বাঁধ ধসে তার দুই একরসহ অনেক কৃষকের রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইয়াসিন আলী বলেন, “বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, আমার ১০ বিঘা রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে খবর দিয়ে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করি। কিন্তু স্রোত বেশি থাকায় মেরামত করা সম্ভব হয়নি।”

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, সেচ খালের প্রায় ৪১ কিলোমিটার ক্যানেলসহ বাঁধ সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। সকালে হঠাৎ করে বাঁধে থাকা ইঁদুরের গর্তে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। 

“ওই এলাকার প্রায় ৯০ একর জমির রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ক্যানেলে পানি প্রবাহ বেশি থাকায় ভাঙন স্থানে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমলে মেরামত কাজ শুরু করা হবে। তবে রোপা আমন ক্ষেত চার-পাঁচ দিন পানির নিচে থাকলেও তেমন ক্ষতি হবে না।

কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।

বাঁধ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ। 

তিনি বলেন, “পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে রোপা আমন ক্ষেতে ১০ থেকে ১২ দিন পানিতে তলিয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা।”