শরীয়তপুর হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৬
ওসি বলেন, চিকিৎসক নাসির ইসলাম, নার্স, কর্মচারী ও আনসার সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে।
রোববার সকালে হাসপাতালের সামনে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা এ কর্মসূচি করেন বলে জানানা পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম।
তিনি বলেন, চিকিৎসক নাসির ইসলাম এবং কর্তব্যরত নার্স, কর্মচারী ও আনসার সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আকরাম এলাহী ১১ জনের নাম দিয়ে আরও ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেছেন।
ওসি শাহ আলম বলেন, সিসিটিভি ভিডিও দেখে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২), জায়েদা বেগম (৬০) ও আয়েশা মনি (১৯)। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মো. রেহান উদ্দিন, সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম, অর্থোপেডিক চিকিৎসক মফিজুর রহমান স্বপন, অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট আকরাম এলাহী এবং চিকিৎসক কাজী মো. ইলিয়াস।
সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তে মফিজুর রহমান স্বপনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালে যান। জরুরি বিভাগে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু রোগীর স্বজনেরা লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে তাকে হাসপাতালেই ভর্তি রাখেন। কিছু সময় পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন- এমন অভিযোগ তুলে স্বজনেরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে শনিবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
