শরীয়তপুর হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আহত চিকিৎসক
রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন- এমন অভিযোগ তুলে দায়িত্বরত চিকিৎসককে ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়।
হৃদ্রোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০।
গুরুতর আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিতু আক্তার।
পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আল আমিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে তাকে সদর হাসপাতালেই ভর্তি রাখেন। কিছু সময় পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাল মিয়া মারা যান।
রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন- এমন অভিযোগ তুলে স্বজনেরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত চিকিৎসককে উদ্ধার করে। রাতেই তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সকালে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা।
শরীয়তপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, হামলায় আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে শনিবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তাকর্মী সোহেল মিয়া (৩৪), আজিজুল রহমান (২৮), মোশারফ হোসেন (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪১) ও সাইফুল ইসলাম (৫১)।
ঘটনার পর শনিবার সকালে হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, পুলিশ সুপার রওনক জাহান ও শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।
সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, “ঘটনাটির তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। আক্রান্ত চিকিৎসকের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।”
