Published : 05 May 2026, 10:12 PM
কুষ্টিয়ায় এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলার তদন্ত প্রায় নয় মাস ধরে ভিসেরা ও হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
২০২৫ সালের ৬ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় এক অজ্ঞাত কিশোরীর (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয় এবং মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের খবরে ওই কিশোরীর নানি আনজু বেগম মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করে। কিশোরীর মায়া খাতুন (১৪) তার নানির সঙ্গে কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, অপমৃত্যু (ইউডি) মামলায় মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ভিসেরা ও হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদনের প্রয়োজন হয়। এসব নমুনা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয় এবং সাধারণত দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “প্রতিবেদন পাওয়ার পর চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু দেরি হলে মামলার তদন্তও বিলম্বিত হয়।”
ওসি বলেন, প্রতিবেদনের বিলম্বের কারণ হাসপাতাল বা ল্যাব কর্তৃপক্ষই ভালোভাবে বলতে পারবে।
নিহতের নানি আনজু বেগম বলেন, মায়ার বাবা-মা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর থেকে সে তার কাছেই থাকত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে কোট স্টেশন এলাকার চা বিক্রেতা সোহেল মায়াকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই ঘটনায় তিনি তাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দিতেন এবং চাপ দিতেন।
আনজু বেগম বলেন, নাতনীর মৃত্যুর পর তিনি বিষয়টি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে থানার ওসি তাকে বলেছিল, প্রতিবেদন হাতে পেলে এমনিতেই হত্যা মামলা হবে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মান্নান বলেন, ২০২৫ সালের ৬ অগাস্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের সময় মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষাগারে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।
তিনি বলেন, চার দিন পর ১০ অগাস্ট ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর ভিসেরা নমুনা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও প্রতিবেদন না আসার কারণ ল্যাব কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।
ভিসেরা এবং হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদন হল ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য করা ফরেনসিক পরীক্ষা। যখন সাধারণ ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হয় না, তখন এই পরীক্ষাগুলো করা হয়।