১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় বাড়ছে ডেঙ্গু, সীমান্ত এলাকায় রোগী বেশি

জেলাজুড়ে বিশেষায়িত শয্যা প্রস্তুতসহ মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 03:32 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

নেত্রকোণায় দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

এ পরিস্থিতিতে জেলার সবকটি হাসপাতালে বিশেষায়িত শয্যা প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বুধবার রাতে সরবরাহ করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২০৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন; যাদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা শেষে ১৯৯ জন বাড়ি ফিরেছেন। 

হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৬ জন অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নেত্রকোণা সদর হাসাপাতালে সবচেয়ে বেশি ৭২২ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলেও রোগী শনাক্তের হার বেশি দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায়। এ দুই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। দুটি উপজেলাই মেঘালয় সীমান্ত সংলগ্ন। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৫টি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে এনএস-১ পজিটিভ ১৩৩ জন এবং ইমিউনোগ্লোবুলিন পজিটিভ ৫৫ জনসহ মোট ১৯০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

নেত্রকোণার সিভিল সার্জন গোলাম মওলা বলেন, জেলায় ডেঙ্গুর জন্য ৮৬৯টি এনএস-১ এবং ৯৪৯টি ইমিউনোগ্লোবুলিন কিট মজুত রয়েছে। এ ছাড়া সদর হাসপাতালের ১৫টিসহ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৫৮টি বিশেষায়িত শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায়। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। আর জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী কেন্দুয়া উপজেলায় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছেন।

সংসদ সদস্য হিলালী বলেন, “চিকিৎসা স্বাস্থ্য বিভাগ দেবে, তবে মশাই যাতে সৃষ্টি হতে না পারে- সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মানুষের জীবন রক্ষায় সব স্তরের মানুষকে এ অভিযানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

একইভাবে নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হকও জেলা শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন।