অফিস দখল, নিরাপত্তা নেই, ভোট ছাড়ার কথা ভাবছেন বগুড়ার জাপা প্রার্থী
“শুধু পার্টি অফিস দখল নয়, দখলের পর আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উল্টো থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।”
বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টি অফিস দখলের পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দলটির বগুড়া-৪ আসনের (কাহালু-নন্দি গ্রাম) মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক।
নিরাপত্তাহীনতায় নির্বাচনি এলাকায় ঠিকভাবে যেতে পারছেন না, তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও ভাবছেন তিনি।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নিজের নিরাপত্তা বোধ করছি না। এলাকায় ঘুরতে গেলে সমর্থকরা বলেন, পরিবেশ ভালো না। বিকালেই ফিরে আসি তাই।”
নির্বাচন পরিচালনার সব কাজও বন্ধ হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “জেলা পার্টি অফিসে বসে পরিকল্পনা করবো সেই পথও বন্ধও হয়ে গেল। শুধু পার্টি অফিস দখল নয়, দখলের পর আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উল্টো থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
“এছাড়া জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন করতে দিবে না এবং প্রতিহত করবে এমন স্লোগান দিয়েছে জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে।”
এমন অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন কখনও সম্ভব না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পার্টি অফিস দখল নিয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি তার অফিসে দেখা করতে বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তা নাহলে জীবন রক্ষায় এবং পার্টি অফিস দখলের কারণে হয়তবা নির্বাচন বর্জন করতে হতে পারে। “
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত জাতীয় পার্টির জেলা অফিস একবার ভাঙচুর করা হয়েছিল। পরে শনিবার আবারও ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে অফিসটি দখল করে নেওয়া হয়।
‘জুলাই যোদ্ধারা’ খালেদা জিয়ার শোক সম্বলিত এবং গণভোট নিয়ে দুটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় অফিসের ভেতরে ও বাহিরে। এ সময় জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি মনিরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় পার্টির অফিস দখলের বিষয় নিয়ে কিছু লোকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। কারা কার বিরুদ্ধে করল এ মুহূর্তে জানা নেই। তবে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
আগের সংবাদ
