Published : 13 Sep 2026, 02:48 PM
কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী।
শনিবার রাত ২টার দিকে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পেন্নই দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মো. শফিউল আলম জানিয়েছেন।
নিহত ৪৫ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি ২০২১ সালে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতের ভাই জালাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাতে আনোয়ার স্ত্রী ও ছোট সন্তানের সঙ্গে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে একদল ব্যক্তি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তার হাতের রগ কেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা বলছেন, ২০২৩ সালে ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫ অগাস্টের পর আনোয়ারের প্রতি বিক্ষুব্ধরা তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর আনোয়ার আর বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
জালাল বলেন, “আনোয়ার যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর এলাকায় ফেরার সুযোগ পেতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তিনি।
“এ নিয়ে তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও শোনা যায়। ওই টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।”
নিহত আনোয়ারের মেয়ের জামাই শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, “২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই তিনি গ্রাম ছাড়া। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকলেও একই দলের একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ছিল।”
এ প্রসঙ্গে ওসি শফিউল আলম বলেন, “আনোয়ারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। সে আগে থেকেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছিল। ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে সে যখন আত্মগোপনে চলে যায়, তখনও মাঝে মাঝে এলাকায় এসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতো বলে জানতে পেরেছি।
“এ নিয়ে এলাকাবাসীর একটি পক্ষ বিক্ষুব্ধ ছিল। হতে পারে, সেই জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই।”
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছন এ পুলিশ কর্মকর্তা।