বঙ্গবন্ধু সরকারের শিক্ষায় বাজেট ছিল ২২ শতাংশ: ফরাসউদ্দিন

এখন শিক্ষার হার অনেক বাড়লেও মান নিয়ে ‘প্রশ্ন আছে’ বলে মনে করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Sept 2022, 04:23 PM
Updated : 16 Sept 2022, 04:23 PM

অন্যান্য খাতে ‘চাহিদা বাড়ায়’ শিক্ষাখাতে বাজেট এখন বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। 

শুক্রবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি দেশে শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলেন। 

‘৫০ বছরের বাংলাদেশের অর্জন, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই সম্মেলনে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, “বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় শিক্ষাখাতে বাজেট শতকরা ২২ ভাগ বরাদ্দ ছিল। এখন এটা অনেক অনেক কম। এর কারণ তুলনামূলকভাবে অন্যান্য খাতে চাহিদা বেড়েছে। এখন অন্যান্য খাতেও বরাদ্দ দিতে হয়। এখন শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। তবে শিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন আছে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।” 

স্বাধীনতার ৫০ বছরে অনেক কিছুই বাংলাদেশ অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  “ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন, মানব উন্নয়ন সূচকে সন্তোষজনক অগ্রগতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ঊর্ধ্বগতি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ অনেক ক্ষেত্রেই দেশ এখন অনুকরণীয়।” 

আগামী দিনগুলোতে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সে লক্ষ্যেই দেশের সকলকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

বিশ্বব্যাংকের বরাত দিয়ে ফরাসউদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক বছর আগে পূর্ববাংলার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ১২%। বর্তমানে দেশের জিডিপি ৪ হাজার কোটি ডলার ও মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫০০ ডলার। 

“আগে ১ কোটি টন খাদ্য শস্য উৎপাদন হতো। এখন উৎপাদন হচেছ ৪ কোটি টন। তবে জমি এখন শতকরা ২০ ভাগ কমে গেছে।”

আগে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৩ বছর; এখন এটা ৭৩ বছর হয়েছে বলে জানান তিনি। 

বর্তমানে মানবসম্পদ উন্নয়নও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের আগে শ্রীলংকা আর মালদ্বীপ রয়েছে। বাকি দেশেগুলোর উপরে রয়েছে বাংলাদেশ।” 

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যাক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। 

স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক দিলারা রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক জায়েদা শারমিন। সঞ্চালনায় ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুনতহা রাকিব। 

সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন পর্ব শুরু হয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, তুরস্ক, ভারত, মঙ্গোলিয়া ও ডেনমার্কের গবেষকদের শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

আয়োজকরা আরও জানান, বাংলাদেশসহ আটটি দেশের শতাধিক গবেষণাপত্রের ১৪টি সশরীর সেশনে এবং দুইটি ভার্চুয়াল সেশনে উপস্থাপিত হবে। এছাড়া সম্মেলনে দেশ-বিদেশের আড়াই শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষক অংশ নেবেন। 

শনিবার বিকালে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক