Published : 02 May 2026, 09:07 PM
শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান কৃষক আহাদ মিয়া। তার আবাদ করা ছয় বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বপ্নের ধান তলিয়ে যেতে দেখে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে ঢলে পড়েন তিনি। জমিতেই মারা যান এই কৃষক।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন।
মৃত ৫৫ বছর বয়সী আহাদ মিয়া রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ধান তলিয়ে যাওয়া দেখে আহাদ মিয়া স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দাবি স্বজনদের।
ঘটনার বর্ণনা শুনে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
আহাদ মিয়ার বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, “সকালের শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। সব ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।”
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। আহাদ মিয়া ছয় বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধান আবাদ করেন। এদিন সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান তিনি। গিয়ে দেখেন, খেতের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এ দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়ে মারা যান। পরে শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজন লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। দুপুরে জোহরের নামাজের পর আহাদের লাশ দাফন করা হয়।
গোয়ালনগর ইউনিয়নের কৃষক দুধ মিয়া বলেন, আহাদ মিয়া জমির সব ধান তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে জমিতেই মারা যান। একই কারণে গোয়ালনগর এলাকার অন্তত তিনজন কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহাদ মিয়ার ভাতিজা ফারুক মিয়া বলেন, “৫০ হাজার টাকা ঋণ করে চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। সব ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়া দৃশ্য দেখে তিনি সহ্য করতে পেরেননি। জমির আয়লেই চাচা স্ট্রোক করে মারা গেছেন।”
প্রতিনিধি পাঠিয়ে কৃষকের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়ার কথা বলেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন।